সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১   কার্তিক ৯ ১৪২৮   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পায়রা সেতু কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় হবে বিশেষ সেল অবশেষে দেশে চালু হচ্ছে পেপ্যাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুত নেয়ার পরিকল্পনা স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে বাংলাদেশ
৬৪০

বিকাশের আয় ব্যয়ের তথ্য চায় বিএফআইইউ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ গত পাঁচ বছরে কী কী পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে তার হিসাব চেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএফআইইউর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে আনা সফটওয়্যার এবং অন্যান্য সেবা ও প্রযুক্তির তালিকা এবং যেসব প্রতিষ্ঠানকে রয়্যালটি ফি বা লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে তার বিবরণীও চাইবে বিএফআইইউ। তাছাড়া এসব সেবা ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক সেবাবিষয়ক চুক্তির হালনাগাদ টেন্ডার প্রকিউরমেন্ট ও এগ্রিমেন্ট ডকুমেন্ট কপিও চাইবে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএফআইইউর এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। যেখানে বলা হয়, বিকাশের মূল স্বত্বাধিকারী মানি ইন মোশন এলএলসির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং সফটওয়্যার আমদানি, ক্রয়, রয়্যালটি ও কমিশন এবং সার্ভিস ফি বাবদ দেশের বাইরে যে অর্থ চলে গেছে তার প্রকৃত হিসাব পেতেই এ সিদ্ধান্ত হয়।

গত দুই বছর বিকাশ লোকসান করেছে বলে বলা হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিকাশের আর্থিক হিসাবে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এর আগের বছরে যা ছিল ৬২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে বিকাশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি।

এদিকে এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাত দাপিয়ে বেড়ানো বিকাশ লোকসানে- এ খবর বিস্ময় তৈরি করেছে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট এবং সাধারণ গ্রাহকদের মাঝেও। তারা বলছেন, ২০১১ সালে যাত্রার পর থেকেই একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে এমএফএস কোম্পানিটি। তারা কীভাবে লোকসানে থাকে সেটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।

উল্লেখ্য, বিকাশের সবচেয়ে বড় অংশীদার ব্র্যাক ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৯ সালে বিকাশের মোট আয় ছিল দুই হাজার ৪১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। মোট আয় দুইশ কোটি টাকার বেশি হলেও তাদের লোকসান বৃদ্ধি পাওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেবার তুলনায় বিকাশের ক্যাশ আউট চার্জ বেশি। বিকাশ সেন্ড মানি বা বিল পে-তেও টাকা নিচ্ছে। সেখানে নগদসহ অন্য কয়েকটি এমএফএস সেবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিকাশের তুলনায় অর্ধেক আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্রি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করলে বিকাশের লোকসান তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। একইভাবে বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন।

বিএফআইইউর এক কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে তাদের পক্ষে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয়। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এখন দেশের সাধারণ মানুষের লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং সঠিকভাবে এ খাতটি পরিচালিত না করা গেলে সেটি দেশের আর্থিক খাতের জন্য ভয়ানক হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর