শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
১৬ লাখ পথশিশুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হাইকোর্টের রুল ই-গেটের মাধ্যমে মিনিটেই ইমিগ্রেশন পার জঙ্গিরা কোণঠাসা, ‘বাংলাদেশ’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিসিক যশোরের ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বাঘারপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
৩৫

রিকশার প্যাডেলে শতবর্ষী রণজিতের জীবনসংগ্রাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২২  

জীবনসায়াহ্নে এসে শতবর্ষী রণজিত রিকশা চালিয়ে জোগাড় করেন তিন বেলার আহার। কোনোরকম খাবারের ব্যবস্থা হলেও নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাই দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে ফুটপাতেই রাত কাটে তার।

মঙ্গলবার রাত থেকে এমন জীবনসংগ্রামের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে রণজিৎ ঘোষের আদি বাড়ি। তিনি দীর্ঘদিন যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। একসময় হোটেলে বাবুর্চির কাজ করলেও এখন আর সেসব কাজে ঠাঁই পান না। তাই উপায় না পেয়ে রিকশা চালান।

একমাত্র মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই। সারা দিন রিকশা চালিয়ে রাতে যশোর শহরের চৌরাস্তার ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (এনএলআই টাওয়ার) ভবনের নিচে ফুটপাতে ঘুমান।  

তিনি বলেন, ‘চার বছর বয়েসে মা মরে গেছে। সৎমার গালিগালাজ শুনিচি ম্যালা। দশ বছর বয়সে এই যশোরে আইচি। বিভিন্ন হোটেলের বাবুর্চির কাজ করিছি। সৎমারে আড়াল করে বাবা যশোরে আসে টুকটাক খোঁজখবর নিত। দেখাশোনা করে আমারে বিয়ে দিয়ার কয়দিন পরেই বাবা মরে গ্যালো।

পাকিস্তান হওয়ার এক বছর পরে আমার ৩ ছেলে মরে গ্যাচে ডায়রিয়ায়। ওদের বয়স তখন ৫ বছরের কম। একটা মেয়ে ছিল। এখন বেঁচে আছে কি না জানিনে। মেয়েরে বিয়ে দিছিলাম। বিয়ের পরে ওর একটা ছেলে হলো। দেড় মাস পরে বাচ্চাটকে নিয়ে আমার কাছে চলে আসল মেয়ে। খুব কষ্টে মেয়ের নামে একটা বাড়িও কিনিছিলাম আকবরের মোড়ে। শেষে মেয়েটাও আমাকে ছেড়ে কোথায় যে চলে গ্যাছে, তার আর খোঁজ পাইনে।

তিনি বলেন, ১১ বছর আগে আমার স্ত্রী মরে গেছে। মেয়ের রেখে যাওয়া দেড় মাসের ছেলেকে বড় করলাম, বিয়ে দিলাম। সেও তার স্ত্রী-সংসার নিয়ে চলে গ্যাছে। এখন আমার দুনিয়ায় এই রিকশা ছাড়া আর আপন বলতে কেউ নেই।

রণজিৎ বলেন, কোনো কোনো দিন ৬০ টাকা, ৮০ টাকা, ১০০ টাকা বা ১৫০ টাকা আয় হয়। আমি বৃদ্ধ, মানুষ রিকশায় উঠতে চায় না। হাত-পা ধরে কয়জন যাত্রী আনি, সে আয় দিয়ে হোটেলে কোনো রকম দুবেলা-দুমুঠো খাই দিন পার করি।

বাড়িঘর হারানোর পরে এক হাজার টাকার ভাড়া বাসায় একাই থাকতাম। রোজগার ভালো হয় না; তাই ভাড়া করা বাসা ছেড়ে এখন ফুটপাতে থাকি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার আক্ষেপ তুলে ধরে রণজিৎ বলেন, কত নিতার কাছে গিলাম। সবাই ফিরোয়ে দেচে। লাগবে না আইডি কাড। কী হবে এখন আর আইডি কাড দিয়ে?

যশোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বজন সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার দাস বলেন, শতবর্ষী রণজিৎ কুমারের জীবনসংগ্রাম যেকোনো হৃদয়বান মানুষকে স্পর্শ করবে। এ মানুষটির সংগ্রামের গল্পও আমাকে অশ্রসিক্ত করেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীবনের গল্প উঠে এসেছে। তার সহায়তায় বিবেকবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর