মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১১ ১৪২৯   ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন নিউজ উইকে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের গল্প অবহেলিত মেটে আলু স্বপ্ন দেখাচ্ছে চৌগাছাবাসীকে যশোর-ঝিনাইদহ-মাগুরায় শাক সবজির বিরাট ফলন অভিশপ্ত ইনডেমনিটি ও ইতিহাসের কালো আইন যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে টিকে রইল ৫২ প্রার্থী ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কালনা মধুমতি সেতু
৮২

যশোরের পুলিশ সুপারসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২২  

খুলনা রেঞ্জ পুলিশের মাসিক অপরাধ বিষয়ক সভায় যশোরের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৪ পুলিশ  কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। একইসাথে গত জুন ও জুলাই মাসের অপরাধ পরিসংখ্যান, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিবারণ, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি পর্যালোচনা, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা তদন্তের অগ্রগতি আলোচনা হয়েছে। 

এই সভা থেকে দু’মাসের কর্ম মূল্যায়ণে ৪ অফিসারকে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

পুরস্কৃতরা হচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন, যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম, কেশবপুর থানার এসআই আজিজুর রহমান ও বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই সোহেল রানা।  

৭ আগস্ট খুলনায় ডিআইজির কার্যালয়ে ডিআইজি ডক্টর খন্দকার মহিদ উদ্দিনের বিপিএম (বার), সভাপতিত্বে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম পিপিএম বার উপস্থিত ছিলেন।  মাসিক এ সভায় অপরাধ পরিসংখ্যান, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিবারণ, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। জুন জুলাই মাসের কর্ম মূল্যায়ণে শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হওয়ায় ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপরে উল্লেখিত যশোরের ৪ পুলিশ অফিসারকে সংবর্ধিত করা হয়। শ্রেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ ও শ্রেষ্ঠ এ্সআই নির্বাচিত করা হয় তাদের। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ডিআইজি। অপরাধ দমন  কার্যক্রমে তারা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন উল্লেখ করে তারা এই কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এই অর্জণে  যশোরের পুলিশ সম্মানিত ও গৌরব বোধ করছে বলেও জানিয়েছে যশোর পুলিশের মিডিয়া সেল।

পাকশি ব্রিজের নীচ দিয়ে ফেরিতে বাস-ট্রাক পারাপার হতো। ঘাটে কুলিসহ দালালরা বস্তাপ্রতি ৪০০/৫০০ টাকা চাঁদা নিতো। দিতে না পারলে নানা অত্যাচার চালাতো। ট্রাক থেকে বস্তা ফেলে দিত ঘাটে বা নদীতে। সেতু হওয়ার পর সেই অত্যাচার কমেছে। বাজারও হয়েছে সম্প্রসারিত। আগে যেখানে দশ দিনেও পণ্য পৌঁছাতো না গন্তব্যে, এখন তা পৌঁছে যায় ২৪ ঘণ্টায়। শুধু উত্তরবঙ্গ না, রাজধানীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এখন পৌঁছে যাচ্ছে যশোরের মণিরামপুরের এই জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য।

পণ্য তৈরির জন্য যেসব কাঁচামাল যেমন পুরাতন টায়ার-টিউব, গার্মেন্টসের পাইপ ইত্যাদি দেশের প্রায় সব জেলাতেই পাওয়া যায়। তবে বেশি পাওয়া যায় যশোর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া জেলাতে। এগুলো তারা স্বল্পমূল্যে কিনে নিয়ে আসেন।

সাধনায় ভাগ্য বদলালেন তারা, গড়ে উঠলো শিল্পপল্লীস্থানীয়রা জানান, তাদের পণ্যের ক্রেতা প্রধানত সাইকেল, মোটরসাকেল, মোটরপার্টস, স্যালো পার্টস, সেনিটারির এবং হার্ডওয়ারের দোকানদাররা। এখান থেকে পণ্য কিনে নিজেরাই পাইকারি বা খুচরা বিক্রি করেন তারা। এখন আর পণ্য নিয়ে ছুটতে হয় না মণিরামপুরের এই উৎপাদনকারীদের। মোবাইলে চাহিদা এবং টাকা পরিশোধ করলেই কুরিয়ারে পণ্য চালান দিয়ে দেন। টাকা লেনদেন হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে।

কুড়েঘর থেকে এখন পাকা বাড়িতে উঠেছেন পিছিয়েপড়া এ জনগোষ্ঠী। এলাকার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িই পাকা। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি বসেছে আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল। ঘরে রঙিন টেলিভিশন। জরাজীর্ণ পুরাতন উপসনালয়  (মন্দির) সংস্কার হয়েছে। অনেকের বাড়িতে রয়েছে গোয়ালঘর। বাড়ি-ঘর-দূয়ার সবই গোছালো, পরিপাটি। সন্তানরা লেখাপড়া শিখছেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে অনেকে চাকরি করছেন সচিবালয়, পুলিশ, বিজিবি, মোংলা পোর্ট, বেসরকারি সংস্থা ও কোম্পানিতে। মূলত পাঁচ প্রজন্মের লাগাতার পরিশ্রম ও সংগ্রামের পর একদার ‘অচ্ছুৎ’ পরিচয় পেরিয়ে তারা আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন।

এই জনগোষ্ঠীর কর্মবিপ্লব নজর কাড়লে সম্প্রতি এগিয়ে আসেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। তারসাধনায় ভাগ্য বদলালেন তারা, গড়ে উঠলো শিল্পপল্লী উদ্যোগে এ পেশায় কর্মজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন ও আর্থিক সংকট দূর করতে নানা প্রকল্প নিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। সেই সূত্র ধরেই সম্প্রতি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বালিয়াডাঙ্গা এবং মাছনার ঋষিপল্লীকে ‘জীবিকায়ন শিল্প পল্লী’র উদ্বোধন করেছেন।

শিল্প পল্লীর বাসিন্দারা জানান, তাদের উৎপাদিত ক্ষুদ্রপণ্যের কদর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কোলতাকায়ও আছে। এখান থেকে কেউ কেউ সেখানে যেয়ে কারখানাও তৈরি করেছেন। কিন্তু, তাদের পণ্যের ফিনিশিং খুব একটা ভালো না। সে কারণে অনেকে এখান থেকে পণ্য কিনে চোরাইপথে ভারতে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। স্থানীয়দের সুপারিশ সরকার যদি তাদের পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করে তাতে নিজেরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সরকারও রাজস্ব লাভ করতে পারবে।

তারা জানান, পণ্য উৎপাদনে মূলধনের জন্য এক সময় এনজিওগুলো থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতেন। এখন ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ায় কমেছে এনজিওর ঋণের বোঝা। তবে নির্ধারিত ঋণ সুবিধার বদলে চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদানেরও আশা করেন তারা।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর