শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
১৬ লাখ পথশিশুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হাইকোর্টের রুল ই-গেটের মাধ্যমে মিনিটেই ইমিগ্রেশন পার জঙ্গিরা কোণঠাসা, ‘বাংলাদেশ’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিসিক যশোরের ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বাঘারপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
৪৬

তীব্র গরমে ফরিদপুরে বাড়ছে তালের শাঁসের চাহিদা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২২  

ফরিদপুরে প্রচণ্ড তাপদহে শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ মানুষের কাছে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের চাহিদা ও কদর বেড়ে গেছে। এ গরমে তৃষ্ণা ও শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে লোকজন তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন। চাহিদার কারণে ব্যবসায়ীরা দামও নিচ্ছে তুলনামূলক বেশি। ক্লান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ বিশেষ করে শ্রমজীবীরা এ প্রকিৃতিক ভেজালমুক্ত ফলটি কিনে খেতে দামের বিষয়টি খুব একটা আমলে আনছেন না।

আম ও লিচুসহ মৌসুমি অন্য ফলের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহারের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু তালশাঁসে এসবের প্রয়োজন হয় না। ফলে ভেজালমুক্ত তাল শাঁসের কদর বেশি।

তাল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বোরাসাস ফ্লাবেলিফার । এটি এশিয়া ও আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীন ফল গাছ। ওই গাছের ফলকে তাল বলা হয়। পাকার আগে গ্রামাঞ্চলে এটি ‘পানি তাল’ হিসেবে পরিচিত। তাল ‘এরিকাসি’ পরিবারের ‘বরাসুস’ গণের একটি সস্পুক উদ্ভিদ। তালের ফল এবং বীজ বাঙালির খাদ্য। তালের ফলের ঘণ নির্যাস থেকে তাল ফুলুরি তৈরি হয়। তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা তালশাঁস নামে। তালে রয়েছে প্রচন্ড ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক পটাশিয়াল, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদান। এর সাথে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান রয়েছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ জলীয় অংশ, ক্যালরী ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালমিয়ান ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শুন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ও ৪ মিলিগ্রাম রয়েছে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।

ব্যবসায়ীরা গ্রাম-গঞ্জ থেকে তাল সংগ্রহ করে সড়কের পাশে ও অলিগলিতে বিক্রি করছে। মানুষ অহরহ ফরমালিন মুক্ত এ ফল খেয়ে খাচ্ছেন। তালের চাহিদা থাকায় বিচি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ৫ টাকা করে তিন বিচি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। আবার ছোট তালের বিচির শাঁস ৩ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা মূল্যের দিতে না তাকিয়ে স্বাছন্দে কিনে নিচ্ছেন।

ময়না গ্রামের ক্ষুদ্র  তাল ব্যবসায়ী মাসুদ,এনামুল  মিয়া জানান, গ্রাম থেকে ঘুরে ঘুরে গাছ মালিকের কাছ থেকে আবার পাইকারীর কাছ থেকে  তাল শাঁস  কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন বাজারে বা জেলা শহরে নসিমনে গিয়ে  বিক্রি করেন।

প্রতি পিস তাল কিনতে হয় প্রকারভেদে ৩ থেকে ৫ টাকায়। বিক্রি করেন ৫ থেকে ১০ টাকা। তিনি আরো জানান, গত ১৫ দিন ধরে বিক্রি করছি। এতে দৈনিক ৪’শ থেকে এক হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ময়না গ্রামের পাইকারি ব্যবসায়িক নান্নু   সেক,কাদের সেক বলেন, গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি তাল ক্রয় করে গাছ থেকে পেড়ে এনে তাল শাস ফরিদপুর সহ পার্শবর্তী জেলায়  বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠের অর্ধেক পর্যন্ত চলবে তালশাঁস বিক্রি। তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরম থাকায় তালশাঁসের চাহিদা রয়েছে বেশি। তালেশাঁসের এক হাজার  বিক্রি হচ্ছে৩০০০- ৪০০০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০  লাভ হয়ে থাকে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর হাসপাতালে সামনে ভ্যান থেকে   তালের শাঁস কিনতে আসা সিরাজুল ইসলাম  বলেন, তালের শাস একটি সুস্বাদু ফল। গরম থেকে এসে তালের শাস খেতে ভালই লাগে।

বোয়ালমারী উপজেলার স্বাস্থ কমপ্লেক্সে প্রধান  ডা. মো. খালেদুল রহমান  জানিয়েছেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এবিসিসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর