বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগ কখনো সন্ত্রাস প্রশ্রয় দেয় না এইডস রোগীদের জন্য যশোরে হচ্ছে এআরটি সেন্টার যশোরে খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সোহেল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অক্ষত ছিল যে পতাকা খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন
৫১

আ.লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন মহারাজ

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। রোববার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সম্মেলন করে এবং দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সালমা রহমান হ্যাপীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল, সহসভাপতি ও পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু জমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহীদ আহসান, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র গোলাম কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কানাই লাল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ হমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহিউদ্দিন মহারাজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্র্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে-জেলা পরিষদ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, করোনাকালীন এবং আপৎকালীন সময়ে মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখে দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শহিদ পরিবারের সন্তান সালমা রহমান হ্যাপীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আমি এই নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলাম। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালি দিয়ে তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এর আগে একেএমএ আউয়াল বক্তব্য দেন। পরে সালমা রহমান হ্যাপী তার বক্তব্যে মহিউদ্দিন মহারাজের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি মহারাজের পূর্ণ সমর্থনকে একজন দায়িত্বশীল নেতা ও তার আস্থাকে ত্যাগী নেতার মহানুভবতা আখ্যা দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহিউদ্দিন মহারাজ। শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকসহ কেন্দ্রীয় আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের এ সময় মহিউদ্দিন মহারাজকে নির্বাচন থেকে সরে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, মহিউদ্দিন মহারাজকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিবর্তে ভবিষ্যতে বড় কোনো কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। পরে সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ-সদস্য একেএম আউয়ালকে ডেকে নিয়ে মহিউদ্দিন মহারাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার নির্দেশনা দেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া জেলা পরিষদে পিরোজপুরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন মহিউদ্দিন মহারাজ। গত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়েছিলেন। এবারও নির্বাচনের আগেই পিরোজপুর জেলা পরিষদের ৭৪৭ ভোটারের মধ্যে ৭০৪ জনই মহিউদ্দিন মহারাজকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। মহিউদ্দিন মহারাজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে পিরোজপুর জেলায় অনেকটা ফাঁকা মাঠে সালমা ইসলাম।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর