মঙ্গলবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৪ ১৪২৯   ১৫ রজব ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ : বিআইডিএস তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাশরাফি আইডল, তাকে দেখে তরুণরা শিখবে যশোরে দুইদিনের আইটি মেলা ও শীত উৎসব শুরু যশোরে ১ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ ঠাঁই নেই যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে
৯৮৪

টানা বৃষ্টিতে বেহাল যশোর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২১  

একটানা বৃষ্টিতে যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাঁটু থেকে কোমর পানি জমেছে অনেক জায়গায়। বেশ কয়েক জায়গার বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। শনিবার রাত থেকে একটানা বৃষ্টির কারণে শহরের অনেক এলাকায় এখন পানি আর পানি। দুর্ভোগে পড়া মানুষ এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।  

গতকাল শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেকের বসতঘরে পানি উঠেছে। ঘরের আসবাবপত্র পানির নীচে। বিশেষ করে শহরের শংকরপুর, খড়কি, বেজপাড়া, বারান্দিপাড়া, পিটিআই রোড, স্টেশন রোড, ঘোপের একটি অংশের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি। কোনো কোনো জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়ায় গলি পথগুলোর অবস্থা আরও বেহাল।

শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদের সামনের সড়কে দেখা যায়, পানি থৈ থৈ করছে।  মানুষজন চলাচল করতে পারছেনা। রাস্তায় গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। ইছহক সড়কের সামনের অবস্থা আরও বেহাল। এই সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাচলের উপায় নেই। শহরের পিটিআই স্কুলের সামনের রাস্তা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা না কোনো ডোবা! এই এলাকার অনেকের বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে এখানকার লোকজন। যশোর সরকারি এমএম কলেজ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই কিছু কিছু জায়গায়। কবরস্থানপাড়ার একটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, খড়কি ধোপাপাড়ার নীচু এলাকায় হাঁটু পানি জমেছে।

বেজপাড়া মেইনরোড, বনানী রোড এলাকার অবস্থা একই। ওই এলাকার মানুষ দাবি করেন, সেখানে পানি জমলে তা নিষ্কাশন হতে মাসের পর মাস লেগে যায়। শহরের রেলস্টেশন রোডের অবস্থাও বেহাল। খানাখন্দে পূর্ণ রাস্তাটিতে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। বারান্দি মাঠপাড়া, বটতলা চাতাল, নাথপাড়া, কলোনি ও সিটি কলেজপাড়ার একটি অংশ ডুবে রয়েছে। বিশেষ করে মাঠপাড়ার অবস্থা বেহাল। সেখানেও ঘরের মধ্যে পানি উঠেছে।

এসব এলাকার লোকজন জানায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না বলে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। অনেক ড্রেন রয়েছে যেসব বছরের পর বছর পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই কিছু কিছু এলাকায়। তাদের কেউ কেউ বলেন, বর্ষাকাল শুরু হয়েছে মাত্র। একদিনের বৃষ্টিতে পানিবদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। বর্ষাকালের বাকি সময়টা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

বৃষ্টিতে প্লাবিত যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল এদিকে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া সংক্রান্ত অফিস। এলইসি গনেশ চন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুর রহমান রিপন বলেন, তার ওয়ার্ডের কিছু জায়গা  তলিয়ে গেছে। এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে তিনি পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন। একই কথা বলেন, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়ন।

এ বিষয়ে পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে সারাদেশেই পানি জমে। ঢাকার অবস্থা আরও খারাপ হয়। সেসব স্থান থেকে 
যশোরের অবস্থা অনেক ভালো। যশোরে জলাবদ্ধতা যেটি তৈরি হয়েছে সেটা সাময়িক। কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে যশোরে কাজ শুরু হয়েছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর