বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগ কখনো সন্ত্রাস প্রশ্রয় দেয় না এইডস রোগীদের জন্য যশোরে হচ্ছে এআরটি সেন্টার যশোরে খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সোহেল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অক্ষত ছিল যে পতাকা খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন
১১৯

যশোর ভবদহের ধলিয়ার বিলে নির্মিত হবে ইপিজেড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২২  

ভবদহের ধলিয়ার বিলের জলাভূমিতে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে যাচ্ছে। এখানে নির্মিত হতে যাচ্ছে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল)। আর মিল করখানার চাকা ঘুরলেই পাল্টে যাবে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র। 

শিল্প কলকারখানার মালিক, শ্রমিক, বিদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কর্মযজ্ঞে মুখরিত থাকবে গোটা এলাকা। এ লক্ষ্যে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়ন এলাকায় ৫০২ একর ৬১ শতক জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

যশোর ও অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকার গত ২০২১ সালে দেশে আরো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। এ কাজের জন্য বেছে নেয়া হয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে। 

শেষমেষ সিদ্ধান্ত হয়, যশোরের অভয়নগর অঞ্চলের ভবদহ জলাবদ্ধতার কান্না থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে এ উপজেলায় নির্মাণ করা হবে ইপিজেড। 

সে লক্ষ্যে গেলো বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইপিজেডের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল কবির অভয়নগরের ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন যশোর ও অভয়নগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কর্মকর্তারা যশোর জেলায় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভয়নগর উপজেলার আটটি মৌজার পাঁচ শতাধিক একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এরপর প্রকল্প পরিচালক ওই বছরের ১৯ অক্টোবর যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি  দেন। এতে ইপিজেড স্থাপনে প্রেমবাগ ইউনিয়ন এলাকায় ভবদহের ধলিয়ার বিলে ৫০২ একর ৬১ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। 

অধিগ্রহণকৃত জমিগুলো হলো, বালিয়াডাঙ্গা মৌজার ১১২ একর ৭৭ শতক, আরাজি বাহিরঘাট মৌজায় ৯৯ একর ৪৬ শতক, প্রেমবাগ মৌজায় ১৭১ একর ৮৮ শতক, রাজাপুর মৌজায় ৯০ একর ৭৫ শতক,  চেঙ্গুটিয়া মৌজায় ২৫ একর ২৪ শতক, মাগুরা মৌজায় ৯৩ শতক, মহাখাল মৌজায় এক একর ৪৫ শতক ও আমডাঙ্গা মৌজায় ১৫ শতক।  

প্রস্তাবনায় বলা হয়, যেহেতু উপজেলার ভবদহ এলাকায় প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধতা থাকে। ওই এলাকায় ফসল উৎপাদন হয় না। মাছ চাষ হলেও সেটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। স্থানীয়রা বিলে সামান্য মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ কারণে সরকার ওইস্থানে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে ভবদহ অঞ্চল ও যশোর জেলাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ইপিজেডের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। রপ্তানিমুখী এসব কারখানায় এ অঞ্চলের দেড় লাখ মানুষ কাজের সুযোগ পাবে। এছাড়া প্রকল্পে উপকৃত হবে ১০ লাখ মানুষ। এরপর জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জমির মালিকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। যার তালিকা চুড়ান্ত করে এখন জমির মালিকদের টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে চলছে ক্রটিপূর্ণ কিছু জমির দলিল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। যশোর কালেক্টরেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যশোর সদর, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মধ্যবর্তীস্থানে ভবদহের অবস্থান। এ চারটি উপজেলার ভবদহ বিলপাড়ের ১২০টি গ্রামের অন্তত ৫ লাখ মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে পানি জমে থাকে। বর্ষাকালে কমপক্ষে ছয় মাস কেশবপুর, মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলায় প্রায় ৪৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ওই সময় কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটেও পানি জমে। যে কারণে ওই এলাকায় মানবিক বিপর্যয়  দেখা  দেয়।

অভয়নগরের প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বনগ্রামে বসবাসকারী আসাদুজ্জামান বলেন, ভবদহের স্লুইস গেটে পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে  গেছে। যে কারণে সারাবছরই ধলির বিলসহ দক্ষিণের প্রায় ২৭টি বিলের পানি ভবদহ এলাকায় জমে থাকে। পানির কারণে এসব বিলপাড়ের মানুষ কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে। কৃষিজমি পানির নীচে থাকায় হাজার হাজার মানুষ
থাকে বেকার। ভবদহ এলাকার অসহায় মানুষ বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে, শাপলা ও কলমি শাঁক তুলে হাট-বাজারে বিক্রি করে কোনো রকমে দিনযাপন করেন। এসব মানুষের দু:খের দিন শেষ হতে চলেছে। এলাকায় ইপিজেড নির্মিত হলে লাখো মানুষ কাজের সুযোগ পাবে। ইপিজেডের কারখানা মালিকেরাও স্বল্পমূল্যে শ্রমিক পাবেন। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হবেন।

প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন বলেন, যুগ যুগ ধরে যশোরের দুঃখ হয়ে আছে ভবদহ অঞ্চল। বিলপাড়ের মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থায় এখানে ইপিজেড স্থাপিত হলে এলাকার অর্থনীতির চাকা আবারও সচল হয়ে উঠবে।

অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুজ্জামান বলেন, তিনি সম্প্রতি অভয়নগরে যোগদান করে জেনেছেন সরকারি নির্দেশে প্রেমবাগ ইউনিয়নে ইপিজেড স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ইপিজেড স্থাপিত হলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। শুধু অভয়নগর নয়, যশোর জেলায় এটি সরকারের একটি মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে।

এ বিষয়ে যশোরের  জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ভবদহ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন বিধি মোতাবেক ভূমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মালিকদের পাওনা মিটিয়ে জমি বুঝে পাবার পর এটি প্রকল্প পরিচালকের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, অভয়নগরের ওই জমির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে মালিকরা আপত্তি তুলেছেন, তারা বর্তমান বাজার মূল্য দাবি করছেন। এ কারণে বিষয়টি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি নিয়মানুযায়ী জমির মালিকদের মূল্য পরিশোধ করা হবে। এতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

অভয়নগরে ইপিজেড স্থাপনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল কবীর বলেন, যশোরে ইপিজেড স্থাপনের জন্য ৫০২ একর ৬১ শতক জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। যশোর ইপিজেড, দেশের চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাভার ইপিজেডের মতোই নির্মিত হবে। এতে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। এখানে কমপক্ষে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ভবদহ অঞ্চলের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে।
 

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর