সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৩ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি যৌক্তিক খুলনা-যশোর অঞ্চলে ১৭১ রেলগেটের ৯৮টি অরক্ষিত যশোরে এক মাসে হারানো ৪৯টি মোবাইল উদ্ধার বেনাপোলে পণ্য আমদানিতে অভাবনীয় গতি বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
৭৭

মরা গাছের বিড়ম্বনায় কেশবপুরের পথচারীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২২  

কেশবপুরে বিভিন্ন সড়কের পাশে শত শত রোড শিশু ও সিরিশ গাছ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে গেছে। আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবে রোড রেন্টি গাছ মরে যাচ্ছে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই গাছ মরতে থাকলেও মরা শুকনো গাছগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি মরা গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুতের তার, পথচারি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
 
এসব মরা গাছ একটু দমকা বাতাস এবং ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ছে। মরা ও উপড়েপড়া গাছ না কাটায় ঝুঁকির মধ্যে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে থাকে। মরা গাছগুলো অপসারনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে গণ-সাহায্য সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, মঙ্গলকোট, সাগরদাড়ী, ত্রিমোহিনী, বিদ্যানন্দকাটি, মজিদপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়কের দু’পাশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ রোড শিশু ও সিরিশ গাছের চারা রোপণ করেন। এসব গাছ সড়কের দু’পাশে ছায়া ও সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ করে সড়ক রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু কালক্রমে সেই বিশাল আকৃতির বৃক্ষাদি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষাসহ সড়কের দু’পাশ টেকসই মজবুত রাখার ক্ষেত্রে এসব গাছ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শত শত গাছ বিভিন্ন রাস্তার পাশ থেকে এখন হারিয়ে গেছে। সঠিক তত্ত্বাবধান না থাকায় স্থানে স্থানে গাছগুলো কংকালে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এমন কংকাল গাছের সংখ্যা বাড়ছেই।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গাছ রোপণের সময় গণসাহায্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই সকল জায়গা ব্যবহারের চুক্তি হয়। কেশবপুর ভান্ডারখোলা সড়কের মজিদপুর ইউনিয়ন অংশের সকল গাছ গন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রোপণ করে। যেগুলি মনিরামপুর উপজেলার বে-সরকারি সংগঠন দুস্থ শিশু ও মানবকল্যাণ সংস্থা দেখভাল করেন। বাকি প্রত্যেকটি ইউনিয়নের গাছগুলো দেখভালের দায়িত্ব গনসাহায্য সংস্থার। গাছের উপকারভোগীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ২৫%, সমিতির সদস্যবৃন্দ ৫০% এবং গনসাহায্য সংস্থা ২৫% ভোগ করার সিদ্ধ্যান্ত নেয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ রাস্তার পাশের গাছগুলো বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাছ রোপণের সময়ে রাস্তা কাঁচা থাকলেও ধীরে ধীরে সকল রাস্তা পাকাকরণ হওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে জেলা পরিষদ ওই গাছের মালিকানা দাবি করে আসছে। এ ঘটনায় গণসাহায্য সংস্থার তৎকালীন জেলা সমন্বয়কারী এস কে এম আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে যশোরের সহকারী জজ আদালতে ২০১২ সালে জেলা পরিষদের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। যেটা এখনও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। যার ফলে ওই গাছগুলি কেউ মারতে পারছে না।

ভান্ডারখোলা সড়কে চলাচলকারী ভ্যানচালক আব্দুল জলিল জানান, মরা গাছগুলো ঝড়ে অথবা হালকা বাতাসেই ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা থাকায় আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাই। দ্রুত এসব গাছ কেটে ফেলা উচিত। বুড়িহাটি গ্রামের শহীদুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘রাস্তার পাশে লাগানো এসব মরা গাছ প্রায়ই পথচারীদের ওপর ভেঙ্গে পড়ছে। প্রাণ হাতে নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

এ ব্যপারে উপজেলা সহকারী উদ্ভিত সংরক্ষন কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ বলেন, আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাবের কারণে ১০-১২ বছর বয়স হলেই এ অঞ্চলের রোড শিশু গাছের শিকড় পচে মারা যাচ্ছে।

যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান জানান, সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্তে সড়কের পাশে ঝুকিপূর্ণ গাছগুলি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর