বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২   ভাদ্র ২ ১৪২৯   ২০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম ৬ লেনের কালনা সেতু জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ ৪ কোটি ২১ লাখ মানুষ পেয়েছে বুস্টার ডোজ নড়াইলে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা চৌগাছায় বেশি দামে তেল বিক্রি করায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অনুকরণীয়: এমপি নাবিল প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডিম আমদানি করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম সহনীয় করা হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
১৫৮১

৭ ধাপে আম পাড়া শুরু ১৫ মে, ফলন নিয়ে সংশয়

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯  

আমের রাজধানী রাজশাহীতে এবার আম ভাঙা শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ মে। এই দিন থেকে শুরু হচ্ছে আম পাড়ার আনুষ্ঠানিকতা। এদিন থেকে পর্যায়ক্রমে সাত ধাপে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু পরিপক্ব আম গাছ থেকে পাড়া হবে। 

রাজশাহী জেলা প্রশাসেকর সম্মেলন কক্ষে রোববার (১২ মে) দুপুরে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আম পাড়া নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া করা হয়েছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম আব্দুল কাদের।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হবে। তবে কোনো আম আগে পাকলে নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাতে হবে। এরপর পরিদর্শন শেষেই গাছ থেকে নামানো যাবে আম। 

রাজশাহীতে সাধারণত সবার আগে পাকে গুটি জাতের আম। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার আগামী ১৫ মে থেকে এই আমটি নামাতে পারবেন চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রাণীপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাতা বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা জাতের আম।

রাজশাহীর আম বাগানে ঝুলছে সুদৃশ্য আমঅপরিপক্ব আমের বাজারজাত ঠেকাতে গেলো কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে আম নামানোর তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। এবারও সিদ্ধান্ত নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা ডাকা হয়। সভায় আম চাষি, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে আম পাড়া নিয়ে তারিখ নির্ধারণের পক্ষে-বিপক্ষে তাদের নিজস্ব মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

এর কারণে শুরুতে কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে নামাজের বিরতির পর আবারও সভা শুরু হয়। সেখানেও আম চাষি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা তারিখ নির্ধারণ না করার দাবি জানান। তবে অপরিপক্ব আম যেন কোনোভাবেই বাজারে না আসে তার জন্য তারিখ নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও)। শেষ পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি কোনো বাগানে আম পেকে যায় তাহলে চাষি তা নামাতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনওকে জানাতে হবে। তারপর ইউএনও সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করবেন। বাগানে তিনি প্রাকৃতিকভাবে আম পাকা দেখলে তা নামানোর অনুমতি দেবেন। এরপরই আম নামিয়ে বাজারে পাঠাতে পারবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা- এমন সিদ্ধান্তই হয় ওই সভা থেকে।

সভায় জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি- গতবছর আম নামানোর তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়ার কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। তারা নিশ্চিত ছিলেন যে, কোনো রাসায়নিক মিশিয়ে রাজশাহীর আম পাকানো হয়নি, এটা প্রাকৃতিকভাবেই পেকেছে। ফলে রাজশাহীর আমের সুনাম অক্ষুণ্ন ছিল। এবারও থাকবে।

তিনি বলেন, আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা না হলে বাগানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হতো। কেউ যেন আগেভাগে অপরিপক্ব আম নামাতে না পারেন সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হতো। কিন্তু এতো জনবলও আমাদের নেই। সব দিক বিবেচনায় আম নামানোর ক্ষেত্রে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হলো। তবে আগে পাকলে অবহিতকরণের মাধ্যমে আম নামানোরও সুযোগ থাকলো।

সভায় অন্যদের মধ্যে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. শামসুল হক ও বাঘা উপজেলার আমচাষি জিল্লুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, চলতি বছর ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও তাপদাহসহ প্রাকৃতিক বৈরিতায় গাছ থেকে আপনা আপনি ঝরে পড়ছে বাড়ন্ত আম। এতে রাজশাহীর বাগানগুলোতে কমেছে আমের পরিমাণ। তাই উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়ে আছেন চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে, বাড়তি ফলন না হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা নেই।

বৈশাখ জুড়েই খাঁ খাঁ রোদ। সঙ্গে বইছে লু হাওয়া। এমন সময়ে গুটি বড় হয়ে গাছের শাখা প্রশাখায় দোল খাচ্ছে সবুজ আমের থোকা। এখন কেবল পূর্ণতার অপেক্ষা। তাই এরই মধ্যে রাজশাহীর বাগান মালিকদের মনেও স্বপ্নের ডালপালা ছাড়াচ্ছে। 

কিন্তু এবার আমের মৌসুমে শুরুর পর থেকেই গুটি ঝরেপড়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে স্থানীয় আম চাষিদের। এলাকা ভেদে ঝড়ো হাওয়া, অতি শিলাবৃষ্টি ও সবশেষ বৈশাখী তাপদাহে গাছের ফল প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। আর প্রাকৃতিক বৈরিতা, পোকাদমন ও বাগানে নিয়মিত পরিচর্যায় এ বছর বেড়েছে খরচ। সে তুলনায় বাগানে পর্যাপ্ত আম না থাকায় উৎপাদন নিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন শঙ্কিত।

যদিও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গাছে গাছে এখনও পর্যাপ্ত আম আছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

তাপদাহ কেটে গেলে আর নতুন কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ না এলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মত দেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর