মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১০ ১৪৩১   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

কেশবপুরে গ্রীষ্মকালিন তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

নিউজ ডেস্ক

যশোরের আলো

প্রকাশিত : ০২:০১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বুধবার

যশোরের কেশবপুরে বিল খুকশিয়ার ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের বেড়িবাঁধে গ্রীষ্মকালিন তরমুজ চাষ করে বদলে গেছে শতাধিক কৃষকের ভাগ্য। কয়েক বছর আগে জলাবদ্ধতার কারণে ফসল করতে না পেরে ওই এলাকার কৃষকরা বাধ্য হয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন।

কিন্তু মাছে ভাগ্য ফেরাতে না পারলেও ভাগ্য ফিরেছে তরমুজে। এখন বিলে ঢুকে দেখা যায় তরমুজের সবুজ সমারোহ। মাছের ঘেরের বাঁধে সারি ধরে করা মাচায় পানির ওপর ঝুলে আছে রসাল ফল তরমুজ। 

অসময়ের এই ফসলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিল খুকশিয়ায় ঘেরের বেড়িবাঁধে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ওই ক্ষেত থেকে। এই তরমুজ বিক্রি করে প্রায় ২ কোটি টাকা আয়ের আশা করা হচ্ছে। এই ব্যতিক্রম উপায় তরমুজ চাষের উদ্যোগটা নিয়েছিলেন বিল খুকশিয়া সংলগ্ন কানাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস। বছর তিনেক আগে তিনিই প্রথম মাছের ঘেরের ভেড়িতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ শুরু করেন। প্রথমবারেই এর ব্যাপক ফলন পেয়ে লাভবান হন তিনি। ঘেরের পানিতে মাছ চাষ ও বেড়িবাঁধে তরমুজ আবাদ করে তিনি এই উপজেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেন। তাঁর দেখাদেখি এবার ওই বিলে তরমুজ চাষ করেছেন কানাইডাঙ্গা, আড়ুয়া, কাঁকবাধাল, সারুটিয়া ও গৃধরনগর গ্রামের শতশত কৃষক। 

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। আকারভেদে একেকটি তরমুজের ওজন হয়েছে ৫ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন এই সুস্বাদু তরমুজ।

সরেজমিন বিল খুকশিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিলটির অধিকাংশ ঘেরের বেড়িতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ঘেরের পানির ওপর তৈরি করা মাচায় এসব তরমুজ ঝুলছে। যত দূর চোখ যায়, দেখা মেলে তরমুজের। কৃষকেরা ঘেরের পাড় থেকে কিংবা নৌকায় বসে এসব তরমুজক্ষেত পরিচর্যা করছেন। কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমবারে বেশ লাভবান হওয়ায় এবার সাড়ে ৭ বিঘা ঘেরের বেড়িতে প্রায় ১ হাজার তরমুজগাছ লাগিয়েছেন। এসব তরমুজগাছ থেকে প্রায় ২০০ মণ তরমুজ পাবেন বলে তার ধারণা। প্রতি কোজ তরমুজ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় খুচরা বিক্রি করছে। আর পাইকারদেরে কাছে তা ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছে। এই আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। খরচ খরচা বাদে তরমুজ বিক্রি করে এবার তিনি ২ লক্ষ টাকা লাভের আশা করছেন। নৌকায় বসে তরমুজগাছের পরিচর্যার সময় রিয়াদুজ্জামান নামের এক চাষি বলেন, অন্যদের দেখাদেখি এবারই তিনি প্রথম ৫ বিঘা ঘেরের ভেড়িতে তরমুজ আবাদ করেছেন। কয়েক দিন আগে প্রথমবার ২৬ মণ তরমুজ তুলে ৪২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বিল খুকশিয়ায় উৎপাদিত তরমুজ ঢাকা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার পাইকাদের কাছে বিক্রি করা হয়।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকেরা লাভবান হবে এই তরমুজ চাষে। কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং কৃষকদের বেশি বেশি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে আগামীতে তরমুজ আবাদ আরও বাড়বে।