মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ২০ ১৪২৯   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

কপোতাক্ষ নদের উপর বাঁশের সাঁকোটি এখন মরণ ফাঁদ

নিউজ ডেস্ক

যশোরের আলো

প্রকাশিত : ১০:৫০ এএম, ১৪ মে ২০২২ শনিবার

মাইকেল মধূসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদের উপর বাঁশের সাঁকোটি এখন মরণ ফাঁদ। আর এই কপোতাক্ষ নদের ধারেই যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ি গ্রামে মাইকেলের জন্মস্থান। মাইকেলের জন্মস্থানকে ঘিরে এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের পর্যটন কেন্দ্র। যা থেকে সরকার মোটা অংকের টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকেন। 

মাইকেলের জন্মস্থানকে দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক এখানে প্রতিদিন ভিড় জমায়। তারা এক নজর দেখতে আসেন সনেট কবি মাইকেলে জন্মস্থান ও তার স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ। উপভোগ করেন নদের অপরুপ প্রকৃতিক সৌন্দর্য। আর এই কপোতাক্ষ নদের এক পাড়ে সাতক্ষীর জেলার তালা উপজেলার শার্শা গ্রাম ও বিপরীত পাড়ে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়ি গ্রাম। অথচ দুই জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত একটি বাঁশের শাকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। 

তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের শার্শা গ্রামের ৮ নং ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী জানান, শত বছর পেরিয়ে গেলেও দুই জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত হয়নি কোনো সংযোগ সেতু। ফলে দুই জেলার হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

নদী পারপারে স্থাণীয় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সেখানে ২৭৫ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মান করে করে তার উপর দিয়ে রোদ বৃষ্টিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। এই সাঁকো যেন এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন দুই জেলার হাজার হাজার মানুষসহ দেশ বিদেশের পর্যটকরা এই নদের উপর নির্মিত বাঁশের সাকো জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হয়ে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন, অপরদিকে তারা তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা কাজে এই সাকো পারাপার হচ্ছেন। এই অবস্থায় সরকারের কাছে মাইকেল মধুসুদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি পাকা সেতু নির্মানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমান সরকার প্রান্তিক পর্যায়ে রুট লেবেলে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। রাস্তাঘাট, ব্রজি, কালভার্টসহ সকল ক্ষেতে আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি। মাইকেল মধুসুদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত বাঁশের সাকো দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে থাকেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখানে যাতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হয় সে জন্য আমরা দ্রুত সরকারের নজরে আনার ব্যবস্থাসহ দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা করবো।